দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দিনভর কাজের চাপ, ব্যস্ততার ফাঁকে নিজের জন্য একটু সময় কিংবা জমে থাকা কাজ শেষ করতে গিয়ে অনেকেই রাতের ঘুম কমিয়ে দেন। এক-দুই দিন এমন হলে বিষয়টি তেমন গুরুতর মনে নাও হতে পারে। কিন্তু ঘুম কমিয়ে দেওয়ার অভ্যাস নিয়মিত হয়ে গেলে তার প্রভাব শুধু পরদিনের ক্লান্তিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে।
ভারতের রাজকোটের স্টার্লিং হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মৃদুল শর্মা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি ভালো ঘুমের জন্য তিনি পাঁচটি অভ্যাসের পরামর্শ দিয়েছেন।
কম ঘুমে হৃদ্যন্ত্রে কী প্রভাব পড়ে?
ডা. শর্মার মতে, শরীরের মেরামত ও পুনরুদ্ধারের জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় হৃদ্যন্ত্র, রক্তনালি এবং বিপাকক্রিয়াসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় মেরামত ও পুনরুদ্ধারের কাজ চলে।
তিনি বলেন, ঘুম পর্যাপ্ত না হলে শরীরের এসব মেরামত ও পুনরুদ্ধারের কাজ ব্যাহত হতে পারে। এতে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কম ঘুমের অন্যতম প্রভাব পড়ে রক্তচাপের ওপর। সাধারণত ঘুমের সময় রক্তচাপ কমে আসে। কিন্তু পর্যাপ্ত বিশ্রাম না হলে রক্তচাপ দীর্ঘ সময় বেশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে অপর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোন কর্টিসলের মাত্রাও বাড়াতে পারে। এই দুইয়ের প্রভাবে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
ডা. শর্মা আরও জানান, বিভিন্ন গবেষণায় অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মতো হৃদ্রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমালে ধমনিতে চর্বি ও অন্যান্য পদার্থ জমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে শুধু ঘুমের সময়কালই গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিয়মিত সময়ে ঘুমানো, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা এবং ভালো মানের ঘুমও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো ঘুমের জন্য ডা. শর্মার পাঁচ পরামর্শ হলো:
১. প্রতিদিন ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন।
২. দিনের পরের ভাগে ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলুন।
৩. ঘুমানোর আগে বৈদ্যুতিক পর্দার ব্যবহার কমিয়ে দিন।
৪. শোবার ঘর ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখুন।
৫. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, তবে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত কঠোর শরীরচর্চা করবেন না।
/অ